বিপ্লবী কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস আজ

আজ ১৩ মে। বাংলা সাহিত্যের দ্রোহ ও বিপ্লবের অনন্য কণ্ঠস্বর, কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনে মাত্র ২০ বছর ৮ মাস বয়সে কলকাতার রেডিয়েন্ট কার্মাইকেল হাসপাতালে (বর্তমানে আর. জি. কর হাসপাতাল) যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কলম-সৈনিক।

 সুকান্ত ভট্টাচার্য | ছবিঃ সংগৃহীত


সংক্ষিপ্ত জীবনে দীর্ঘ ছায়া

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা এই কবি তাঁর স্বল্পস্থায়ী জীবনে বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছেন নতুন এক মাত্রা। ১৯৪৫ সালের দিকে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার পর দারিদ্র্য ও চরম পুষ্টিহীনতার সঙ্গে লড়াই করেও সাহিত্যচর্চা থামাননি তিনি। মৃত্যুর ঠিক আগে পর্যন্ত তাঁর হাতে ছিল শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের কলম। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস পরেই ভারত স্বাধীনতা লাভ করে এবং তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ 'ছাড়পত্র' প্রকাশিত হয়—যার সুফল তিনি নিজে দেখে যেতে পারেননি।

দ্রোহ ও দহনের কাব্য

তিরিশের দশকের রোমান্টিসিজম ভেঙে সুকান্ত কবিতায় এনেছিলেন রুক্ষ বাস্তবতার ছোঁয়া।

  • হে মহাজীবন: "ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় / পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি"—এই অমর পঙ্‌ক্তির মাধ্যমে তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকারকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন।

  • ছাড়পত্র: "এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান"—এই বার্তার মাধ্যমে তিনি আগামীর বাসযোগ্য পৃথিবীর স্বপ্ন বুনেছিলেন।

  • অন্যান্য সৃষ্টি: 'আঠারো বছর বয়স', 'রানার', 'দেশলাই কাঠি' এবং 'প্রিয়তমাসু'র মতো কবিতাগুলো আজও প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মশাল হিসেবে কাজ করে।

বহুমাত্রিক প্রতিভা ও আদর্শ

কেবল কবিতা নয়, নাটক (অভিযান), ছোটগল্প (ক্ষুধা, ভদ্রলোক) এবং প্রবন্ধেও সুকান্ত তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। কমিউনিস্ট পার্টির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে 'দৈনিক স্বাধীনতা'র কিশোর সভা সম্পাদনা এবং 'আকাল' (১৯৪৪) নামক কাব্য সংকলন প্রকাশের মাধ্যমে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেন।

শ্রদ্ধা ও স্মরণ

সুকান্ত ভট্টাচার্য নেই, কিন্তু তাঁর কলম থেকে বেরিয়ে আসা আগুনের স্ফুলিঙ্গ আজও নেভেনি। প্রতিটি মিছিলে, প্রতিটি প্রতিবাদে আর বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার সংগ্রামে সুকান্ত আজও প্রাসঙ্গিক। কবির প্রয়াণ দিবসে 'সাহিত্য রস' পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।

আপনার কবিতার অবিনাশী স্পর্ধাই হোক আগামীর প্রতিটি তরুণের পথচলার পাথেয়। চিরকাল আপনি আমাদের মাঝে মশালধারী হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন।

লেখক: আয়শা সিদ্দিকা প্রিতি | কন্টেন্ট রাইটার